বিএনপি সরকার গঠিত হলে গ্রামীণ ভিত্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে, ফলে মানুষকে কাজের জন্য ঢাকায় বা চট্টগ্রামে আসতে হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘দক্ষ জনশক্তি-দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
খসরু বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের এক বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে সমন্বয় না করলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না, এবং তা হলে জাতীয় উন্নয়ন টেকসই হবে না।”
তিনি জানান, “আইটি সেক্টর, কলসেন্টার, নার্সিং ও প্রচলিত কুটির শিল্পের আধুনিকায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তাদের তৈরি পণ্য ব্র্যান্ডিং করতে পারে।”
খসরু আরও বলেন, “সরকারি দফতরে সেবার জন্য ধরনা দেওয়ার মানে হলো হয়রানি ও দুর্নীতি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সময় ও অর্থের অপচয় কমাবে।”
তিনি যোগ করেন, “ঢাকায় বসে নয়, জনগণের রায়কে প্রতিফলিত করে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি গ্রহণ করতে হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া বিএনপির মূল লক্ষ্য। ক্ষমতায় এলে কোনো মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা হবে।”
সেমিনারে আইডিইবির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।
সেমিনারের স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিইবির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিইবি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ।
