৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রও ইরান–এর মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তির আওতায় তেহরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে  রয়টার্স–কে। সূত্র অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তহবিলের অর্ধেকের বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

সূত্রটি জানায়, এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রদান করা। পরিকল্পনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান আগামী শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত সামরিক উত্তেজনার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে উভয় পক্ষ একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ইসরায়েল–ও অংশ নেয় বলে উল্লেখ করা হয়। সমঝোতার মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়।

নতুন তহবিলটি কোনো সরকারি ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন প্রকল্প নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে একটি বেসরকারি বিনিয়োগ কাঠামো। এতে কোনো সরকারি অনুদান থাকবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি এতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

একটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানায়, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রথমে Iran যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তারা কোনো ধরনের যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ দেবে না। এরপরই “রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড” নামে নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর ধারণা সামনে আসে।

তহবিল কাঠামো ও অংশগ্রহণের সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
তহবিলের পরিমাণ৩০ হাজার কোটি ডলার
প্রকৃতিবেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল
সরকারি অংশগ্রহণকোনো সরকারি অনুদান নেই
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীউপসাগরীয় দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি
ঘোষিত লক্ষ্যপুনর্গঠন ও উন্নয়ন অর্থায়ন
সম্ভাব্য অবকাঠামোইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর
সময়সীমা৬০ দিনের মধ্যে কাঠামো নির্ধারণ

ইরানি সূত্রের মতে, এই তহবিলের আওতায় আঞ্চলিক দেশগুলো বিভিন্নভাবে অবদান রাখতে পারে—যেমন ঋণ নিশ্চয়তা, ঋণ সুবিধা প্রদান, অথবা সরাসরি পুনর্গঠন প্রকল্পে অর্থায়ন। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর মধ্যে মোবারাকেহ স্টিল কোম্পানির ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার এবং বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং তেল মজুদের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থান রয়েছে। প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, যা পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ সম্পদ, কৃষি ও পর্যটন খাতে সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তহবিলটি বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার থেকে পৃথকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এটি দুটি ভিন্ন আর্থিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত, যাদের লক্ষ্য ও সময়সূচি আলাদা।

 জে. ডি. ভ্যান্স–এর সাম্প্রতিক বক্তব্য উদ্ধৃত করে হোয়াইট হাউস জানায়, ইরান যদি চুক্তির শর্ত পূরণ করে, তবে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত এই তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। শর্তগুলোর মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস এবং কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তহবিল ব্যবস্থাপনার কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানি এতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তহবিল প্রশাসকেরা ইরানি পক্ষ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পরিধি নির্ধারণ করবেন।