কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে দেলোয়ার হোসেন (৪৩) নামের এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে উপজেলার কালাসোনা বাজারের গরুর হাট এলাকা থেকে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে একই দিন সন্ধ্যায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর বায়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিশুর পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত রবিবার বিকেলে কালাসোনা বাজার এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সেখানে অবস্থিত তার নিজস্ব মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ওই ১২ বছরের শিশুটিকে চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের দোকানের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। শিশুটি সরল বিশ্বাসে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই দেলোয়ার হোসেন দোকানের শাটার টেনে বন্ধ করে দেন এবং জনসম্মুখের আড়ালে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তবে বিষয়টি আশেপাশের স্থানীয় সাধারণ মানুষের নজরে আসে এবং ভেতরে শিশুর আকুতি টের পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে দোকানের বন্ধ শাটার টেনে খুলে ফেলেন। এরপর ভেতর থেকে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন এবং অভিযুক্তের হাত থেকে রক্ষা করেন।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার সকালে শিশুর বাবা বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় সশরীরে উপস্থিত হন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য দ্রুত তৎপরতা শুরু করা হয়। থানার ওসির বিশেষ নির্দেশনায় পুলিশের একটি চৌকস দল কালাসোনা বাজার ও এর আশেপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে বিকেল আনুমানিক সময়ে কালাসোনা বাজারের গরুর হাট সংলগ্ন এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সোমবার সন্ধ্যায় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করে আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারটি সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় দ্রুততম সময়ে সঠিক বিচার লাভ করতে পারে।
