হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বজনদের উধাও

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় শিমু আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ হাসপাতালেই রেখে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিমু আক্তারকে তার স্বামী কুদ্দুস খান এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার কিছু সময়ের মধ্যেই শিমুর স্বামী ও সঙ্গে থাকা লোকজন হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নড়িয়া থানাকে অবহিত করে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত শিমু আক্তার নড়িয়া পৌরসভার বাড়ৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস খানের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি ঢাকায় বলে জানা গেছে।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুরজ্ঞিত দাস জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি এক নারীকে অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত হন যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখেই সেখান থেকে চলে যান। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে অবহিত করে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা নিহত নারীর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিষয়তথ্য
নিহতের নামশিমু আক্তার (৩৫)
স্বামীর নামকুদ্দুস খান
ঘটনার স্থাননড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাসস্থানবাড়ৈপাড়া, নড়িয়া পৌরসভা, শরীয়তপুর
ঘটনার সময়বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা
পুলিশের পদক্ষেপমরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তে পাঠানো
প্রাথমিক তথ্যগলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
বর্তমান অবস্থাস্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে