লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) বেলা ১১টা থেকে রামগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মামলার বিবরণ
গত ১৬ জুন রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মেহেদী হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় মেহেদীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৮ জনকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক আলোচনা
রবিবার সকাল থেকেই রামগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রামগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় সমবেত হন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা বলেন, ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি, যা তাদের হতাশ করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান যে, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং তাদের দাবিগুলো শোনার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আসামিদের গ্রেফতার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসে তারা আপাতত কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করলেও ৪৮ ঘণ্টার একটি আলটিমেটাম প্রদান করেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিচে মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম এবং বর্তমান আন্দোলনের তথ্যাদি সারণী আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| নিহত শিক্ষার্থীর নাম | মেহেদী হাসান (অষ্টম শ্রেণি, ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমি) |
| মরদেহ উদ্ধারের তারিখ | ১৬ জুন, ২০২৬ |
| মামলার বর্তমান অবস্থা | ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের |
| আন্দোলনের সময়কাল | ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ |
| আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি | দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | একাধিক পুলিশ টিম গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছে |
| নতুন আলটিমেটাম | ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম |
আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ
৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর এবং কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। রামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন।









