খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম

“যদি কখনও স্মরণে আসি তবে ডেকো আমায়,
আমি তো অতীতকাল নই যে ফিরে আসতেই পারব না।”
উর্দু ও ফারসি সাহিত্যের আকাশে আজও সমান দীপ্ত নক্ষত্র—মির্জা গালিব। তাঁর কাব্যে যেমন প্রেমের অনন্ত ব্যাকুলতা, তেমনি দার্শনিক বোধ, আত্মসমালোচনা, সময়ের ইতিহাস ও মানুষের অন্তর্লৌকিক যন্ত্রণার সূক্ষ্ম প্রকাশ। গজল ও কবিতার জগতে গালিবের অবদান নিঃসন্দেহে অসীম।
Table of Contents
পূর্ণ নাম: মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব।
জন্ম: ২৭ ডিসেম্বর ১৭৯৭, আগ্রা (বর্তমান ভারত)।
শৈশবেই পিতৃহারা হয়েছিলেন। অল্প বয়সে বিবাহিত হলেও জীবন কাটে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত বেদনার মধ্যে।
গালিব ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের অস্তমিত সূর্যের প্রত্যক্ষ দর্শক। তাঁর জীবনকাল সাক্ষী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিস্তার ও ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের। তিনি তাঁর চিঠি ও গদ্যে সেই অস্থির সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর পত্রাবলি আজ উর্দু গদ্যের অমূল্য ধন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম | ২৭ ডিসেম্বর ১৭৯৭, আগ্রা |
| পিতৃপরিচয় | পিতৃহারা শৈশবকাল |
| গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল | মুঘল সাম্রাজ্যের অবসান ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব |
| মৃত্যু | ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৯, দিল্লি |
| সমাধিস্থল | নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজার, দিল্লি |
গালিবের গজল প্রেমকাব্যের বাইরে গিয়ে অস্তিত্ব, নিয়তি, ঈশ্বর, আত্মপরিচয় ও মানব অন্তরের দ্বন্দ্বের গভীর অনুসন্ধান করে। ভাষা অলংকারময়, কিন্তু ভাব গভীর ও বহুমাত্রিক। তাঁর এক বিখ্যাত শের:
“হাজারোঁ খোয়াহিশেঁ এমন যে হার খোয়াহিশ পে দম নিকলে,
বহুত নিকলে মেরে আরমান, লেকিন ফির ভি কম নিকলে।”
ফারসিতেও সমান পারদর্শী ছিলেন, নিজেকে মূলত ফারসি কবি বলতেন। ইতিহাস তাঁকে উর্দু সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন হিসেবে অমর করে রেখেছে।
গালিব কখনো নিয়মিত পেশায় যুক্ত হননি। রাজকীয় ভাতা, বন্ধুদের সহায়তা বা ঋণের ওপর নির্ভর করে কাটানো জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। জীবদ্দশায় কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাননি, তবে তিনি বিশ্বাস করতেন—পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে মর্যাদা দেবে। সেই বিশ্বাস সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৯ সালে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সমাহিত হন নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের নিকটে। আজও তাঁর সমাধি সাহিত্যপ্রেমীদের তীর্থস্থলে পরিণত।
মির্জা গালিব শুধু কবি নয়, তিনি এক জীবনদর্শন, গজল ও চিঠির মাধ্যমে চিরন্তন সাহিত্যকালের পথপ্রদর্শক। তাঁর ভাষা, ভাবনা ও দর্শন আজও অনুরাগী এবং শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উৎস।
মন্তব্য