খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:৩ পিএম

কক্সবাজার থেকে অভিনব কায়দায় রাজধানী ঢাকায় ইয়াবা পাচারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় গাড়িটির ড্যাশবোর্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার পিস ইয়াবা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিনালা ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে মাদককারবারিরা সরকারি স্টিকার ব্যবহারের এই কৌশল নিয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কক্সবাজার শহর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান নিয়ে প্রাইভেটকারে করে ঢাকার দিকে রওনা হয়েছে। এই খবর পেয়ে অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল রামুর রাবার বাগান এলাকায় অবস্থান নেয় এবং চট্টগ্রামমুখী সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে।
নজরদারির একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো ও স্টিকার সাঁটানো একটি সন্দেহভাজন সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয় ডিএনসি টিম। তবে গাড়ির চালক সংকেত অমান্য করে গতি বাড়িয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ধাওয়া করে গাড়িটির গতিপথ রোধ করেন এবং তিন আরোহীকে নিয়ন্ত্রণে নেন।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার অত্যন্ত পরিচিত বলে দাবি করেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের এই দাবি যাচাই করে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিচয় ভুয়া নিশ্চিত হওয়ার পর কর্মকর্তারা গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে প্রাইভেটকারের সামনের ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
এই মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হাতেনাতে আটক হওয়া তিনজন হলেন:
সাব্বির হোসেন (৩৬): কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে।
সীমা ইসলাম (২২): নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে।
উর্মি আক্তার ঊষা (১৮): ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার শাকিল মৃধার স্ত্রী।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এড়াতে এবং মহাসড়কের তল্লাশি চৌকিগুলো অনায়াসে পার হতে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের স্টিকার ব্যবহার করে আসছিল। কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা থেকে কম দামে ইয়াবা কিনে তারা ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করত। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং ভুয়া স্টিকার সরবরাহের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও ডিএনসি যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য