খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪১ পিএম

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ লিওনেল মেসিদের সামনে। নকআউট পর্বের কঠিন সব বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া আর্জেন্টিনা এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই লিওনেল স্কালোনির দলের। বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা, মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স, গোল করার ধারাবাহিকতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—এই চারটি কারণে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখছেন অনেক বিশ্লেষক।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় শক্তি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা আবারও ফাইনালের দৌড়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কখনো ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংলিশরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার সাফল্যও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৩০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ২২টি জয় পেয়েছে। বিপরীতে ইংল্যান্ডের নকআউট জয়ের সংখ্যা ১৪টি। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠে প্রতিবারই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা ও চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি। বয়স ৩৯ হলেও মাঠে তাঁর প্রভাব এখনও অসাধারণ। চলতি বিশ্বকাপে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেও তিনি নজর কেড়েছেন। আট গোল নিয়ে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম শীর্ষে রয়েছেন।
বড় ম্যাচে মেসির পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা বহুবার প্রমাণিত। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যতই সংগঠিত হোক, মুহূর্তের মধ্যে জায়গা তৈরি করে আক্রমণের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও মেসির এই বিশেষ দক্ষতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
সেমিফাইনালের আগে টুখেল মেসির খেলার ধরন নিয়ে বলেন, বল তাঁর কাছে এলেই তিনি রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নেন, নিজের বাঁ পায়ের জন্য জায়গা তৈরি করেন এবং নিখুঁত শট নেওয়ার সুযোগ বের করে ফেলেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার কিছু আক্রমণাত্মক প্যাটার্ন বোঝা গেলেও মেসি নিজের জন্য নতুন পথ তৈরি করার সামর্থ্য রাখেন।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ অন্যতম ভয়ংকর। এখন পর্যন্ত তারা ১৭টি গোল করেছে, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৭.৮টি শট নিয়েও তারা আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রমাণ দিয়েছে।
শুধু এবারের আসরেই নয়, ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল করার ধারাবাহিকতাও উল্লেখযোগ্য। টানা ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তারা অন্তত দুটি করে গোল করেছে। এর মধ্যে টানা চার ম্যাচে তিনটি করে গোল করার নজিরও রয়েছে।
এই ধারাবাহিক আক্রমণ ও গোল করার সামর্থ্য দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে তারা একাধিক পথ ব্যবহার করতে পারে, যা ইংল্যান্ডের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
আর্জেন্টিনার আরেকটি বড় শক্তি হলো সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা। তারা শুধু বেশি আক্রমণ তৈরি করছে না, তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে কার্যকরভাবে গোলও আদায় করে নিচ্ছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপ্টার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনা প্রত্যাশিত গোলের (এক্সজি) তুলনায় বেশি গোল করেছে। এর অর্থ, সুযোগের মান অনুযায়ী তাদের গোলের হার বেশ কার্যকর।
লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ—দুজনই কঠিন পরিস্থিতিতে গোল করার সামর্থ রাখেন। অল্প জায়গা, দ্রুত সিদ্ধান্ত কিংবা দূরপাল্লার শট—সব ক্ষেত্রেই তারা প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজের গোল এর বড় উদাহরণ। সীমিত সুযোগ পেয়েও তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লড়াই সহজ হবে না। ইংল্যান্ডেরও রয়েছে শক্তিশালী স্কোয়াড ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তবে অভিজ্ঞতা, মেসির নেতৃত্ব, গোল করার ধারাবাহিকতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—এই চারটি দিক আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার বড় আশা দেখাচ্ছে।
মন্তব্য