কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাসার পাশে খেলতে গিয়ে পাঁচ বছরের এক অবুঝ শিশু প্রতিবেশীর ঘরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই পাশবিক ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত কিশোরকে হাতেনাতে আটকে রেখে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন। পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকার ওমর খান সরণিতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকার ওই মহল্লায় আক্রান্ত শিশুটির পরিবার এবং অভিযুক্ত কিশোরের পরিবার পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ভাড়া থাকে। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তাদের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গতকাল বুধবার সকালে শিশুটি ওই কিশোরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করার জন্য তাদের বাসায় যায়।
নির্জনতার সুযোগে পাশবিকতা
ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কোনো বড় সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত কিশোর পাঁচ বছরের ওই শিশুটিকে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে নিজের মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। লোকলজ্জার ভয় ভেঙে স্বজনরা আশেপাশের প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানালে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরই আজ দুপুরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে ওই কিশোরকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
আক্রান্ত শিশুর মায়ের আকুতি: “আমরা দুই পরিবার একই এলাকায় পাশাপাশি বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমার মেয়েটি প্রায় প্রতিদিনই ওই কিশোরের ছোট ভাইয়ের সাথে খেলাধুলা করতে যেত। গতকাল সকালেও সে অবুঝের মতো খেলতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে যে এমন একটা সর্বনাশ ওনার বড় ছেলে করবে, তা আমি ভাবতেও পারিনি। আমি এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।”
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চণ্ডিবের মধ্যপাড়া থেকে এক কিশোরকে আটকের পর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও ঘটনার সত্যতা মিলেছে।
ওসি লিমন বোস আরও জানান, শারীরিক পরীক্ষার জন্য আক্রান্ত শিশুটিকে আজই কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। এই ঘটনার পর চণ্ডিবের এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিন্দা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









