গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ষষ্ঠ তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আমজাদ আলী সরকার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম জান্নাতুল মারজান (১৬)। সে টঙ্গীর গাজীবাড়ি পুকুরপাড় এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে। স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক টিউটরিয়াল পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার মাঝেই ষষ্ঠ তলার বারান্দা থেকে হঠাৎ নিচে লাফ দেয় জান্নাতুল মারজান। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তুরাগ থানাধীন শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যা ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সে মাঝেমধ্যে হঠাৎ রেগে যেত। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পরীক্ষায় ভালো ফল না হওয়ায় মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে সে বারান্দা থেকে লাফ দেয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী মেয়েটির মানসিক সমস্যা ছিল। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় ফল খারাপ হওয়ায় সে বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে শোক ও আলোচনা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
