খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই মার্চ ২০২৬, ৬:৫৪ এএম

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি থেকে এবার উঠে এল এক বিশাল বিস্ময়। গত বৃহস্পতিবার সকালে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিশালাকায় এক ‘বোল মাছ’। যার ওজন মেপে পাওয়া গেছে ২০৫ কেজি, যা স্থানীয় হিসেবে পাঁচ মণ পাঁচ কেজিরও বেশি। বিশাল এই মাছটি একই দিন সন্ধ্যায় টেকনাফের একটি আড়তে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সমুদ্রের এই দুষ্প্রাপ্য ও সুস্বাদু মাছটি দেখতে এবং এক নজর স্পর্শ করতে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায় টেকনাফের লামার বাজার এলাকায়।
Table of Contents
টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মো. নাছির ও কায়সার উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ট্রলার গত দুই দিন আগে ১০ জন জেলেসহ সাগরে যাত্রা করে। উপকূলে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে জেলেরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ‘শীলেরকুম’ নামক পাথুরে এলাকায় জাল ফেলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন তারা জাল টেনে তোলেন, তখন অন্য সব মাছের সঙ্গে উঠে আসে রুপালি আভাযুক্ত বিশাল এই বোল মাছটি।
বিশাল ওজনের কারণে মাছটি ট্রলারে তুলতেই জেলেদের দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়। পরে মাছটি টেকনাফের আবু মুছার আড়তে আনা হলে কয়েক দফা দরদামের পর ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর ও সাইফুল ইসলাম এটি কিনে নেন। গড় হিসেবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| মাছের প্রজাতি | বোল মাছ (বৈজ্ঞানিক নাম: Protonibea diacanthus) |
| আহরণের স্থান | সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন শীলেরকুম এলাকা, বঙ্গোপসাগর |
| ওজন | ২০৫ কেজি (৫ মণ ৫ কেজি) |
| বিক্রয় মূল্য | ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা |
| ক্রয়কারী | মোহাম্মদ জাফর ও সাইফুল ইসলাম |
| বিক্রয় কেন্দ্র | টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (শুক্রবার) |
| খুচরা মূল্য (সম্ভাব্য) | ১,৭০০ – ১,৮০০ টাকা প্রতি কেজি |
টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম জানান, বোল মাছ মূলত পাথুরে এলাকায় বিচরণ করতে পছন্দ করে। সেন্ট মার্টিনের প্রবাল সমৃদ্ধ এলাকাটি এদের আদর্শ চারণভূমি। এই মাছ লম্বায় যেমন বড় হয়, ওজনেও অনেক সময় ৯ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে এত বড় মাছ জালে ধরা পড়া বেশ বিরল। এই মাছের পিত্তথলি ও বায়ুথলি অত্যন্ত মূল্যবান এবং ওষধি গুণসম্পন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর।
টেকনাফের ইতিহাসে ১৬৬ কেজি ওজনের বোল মাছ ধরার রেকর্ড থাকলেও ২০৫ কেজির এই মাছটি নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। মাছটির ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বরফ দিয়ে মাছটি সংরক্ষণ করেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সবার সুবিধার্থে মাছটি কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে। ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্থানীয় অনেক ভোজনরসিক আগে থেকেই অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন এই দুষ্প্রাপ্য মাছের অংশ বিশেষ পাওয়ার জন্য।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, সাগরে বড় আকৃতির মাছ ধরা পড়া সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের লক্ষণ। যথাযথ সংরক্ষণ ও সঠিক সময়ে আহরণ নিশ্চিত করা গেলে ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতে বোল মাছের মতো সামুদ্রিক সম্পদ বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য