সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসলে দুই কিশোরের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫)। তারা দুজনই স্থানীয় গুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার (১১ মে) দুপুরে মাদরাসার পরীক্ষা শেষে মনিরুল, শুভসহ পাঁচ বন্ধু ফুটবল খেলে আনন্দ করছিল। খেলা শেষে তারা সবাই মিলে সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর সেতু সংলগ্ন ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামে। পানিতে নামার কিছু সময় পরই মনিরুল ও শুভ নিখোঁজ হয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য তিন বন্ধু নিরাপদে উঠে আসে এবং বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানায়।

নিখোঁজ হওয়ার পর রাতভর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা লেকের পানিতে দুই কিশোরের মরদেহ ভাসতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতদের পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, মনিরুলের বাবা মোহাম্মদ জাকির। তাদের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার পাল্লা গ্রামে। বর্তমানে পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

অপরদিকে শুভ’র বাবা মিজান শিকদার। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মরিচ বুনিয়া এলাকায়। শুভ পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুনলাইট এলাকায় বসবাস করত।

নিহত দুই কিশোরের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো—

নামবয়সশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপারিবারিক তথ্যঘটনার স্থান
মনিরুল১৫ বছরগুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসামাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দাডিএনডি লেক, সিদ্ধিরগঞ্জ
শুভ১৫ বছরগুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসাপটুয়াখালী জেলার মরিচ বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দাডিএনডি লেক, সিদ্ধিরগঞ্জ

স্থানীয়রা জানান, লেকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের গোসল ও অবসর কাটানোর স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতার অভাব রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই পানিতে গোসলের সময় তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা শিশু-কিশোরদের প্রতি আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।