খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার নিরাপত্তা একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়ালেও, সাইবার বীমা খাতের ঝুঁকি নিরূপণ প্রক্রিয়া গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবালডাটা পরিচালিত ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের এক জরিপে দেখা গেছে, বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ সাইবার ঝুঁকির সঠিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। জরিপ অনুসারে, প্রতি ৩ জন বীমা প্রদানকারীর মধ্যে প্রায় ১ জন (৩২.১%) জানিয়েছেন যে, সাইবার বীমা প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ঝুঁকির সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা।
Table of Contents
প্রথাগত বীমা যেমন—অগ্নি বা জীবন বীমার ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটাররা কয়েক দশকের ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্য ঝুঁকির হিসাব করতে পারেন। কিন্তু সাইবার বীমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। গ্লোবালডাটা-র প্রধান বীমা বিশ্লেষক বিট্রিজ বেনিতো-র মতে, সাইবার জগতের হুমকির ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, ফলে অতীতে কী ধরনের আক্রমণ হয়েছিল সেই তথ্য দিয়ে ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এই তথ্যের অভাবই সাইবার বীমার সঠিক প্রিমিয়াম বা মূল্য নির্ধারণ করাকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
| প্রতিবন্ধকতার ধরণ | উত্তরদাতার হার (%) | প্রভাবের ক্ষেত্র |
| ঝুঁকির সঠিক নিরূপণে ব্যর্থতা | ৩২.১% | আন্ডাররাইটিং ও প্রিমিয়াম নির্ধারণ |
| সম্মিলিত ঝুঁকির ব্যবস্থাপনা | ২০.২% | আর্থিক সক্ষমতা ও বড় দাবি নিষ্পত্তি |
| ঐতিহাসিক তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা | উল্লেখযোগ্য | ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন | ক্রমবর্ধমান | পলিসি শর্ত ও বর্জনসমূহ |
জরিপে অংশ নেওয়া ১০৯ জন উত্তরদাতার মধ্যে ২০.২ শতাংশ মনে করেন যে, ‘শেয়ারড রিস্ক’ বা সম্মিলিত ঝুঁকির ব্যবস্থাপনা করা সাইবার বীমার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। একটি বড় আকারের সাইবার আক্রমণে যখন অনেকগুলো কোম্পানি একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদানের চাপ সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। হ্যাকাররা এখন এআই ব্যবহার করে আরও শক্তিশালী এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আক্রমণ পরিচালনা করছে। বিট্রিজ বেনিতো উল্লেখ করেছেন যে, এআই-এর এই দ্রুত বিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান এখন তাদের পলিসিতে ‘এআই-সংক্রান্ত বিশেষ বর্জন’ যুক্ত করছে। অর্থাৎ, এআই ব্যবহার করে কোনো ক্ষতি করা হলে তার দায়ভার বীমা কোম্পানি নিতে চাইছে না।
বিশাল অংকের দাবি মেটানোর সক্ষমতা না থাকায় ছোট বীমা কোম্পানিগুলো এখনও সাইবার বীমা প্রদানের ঝুঁকি নিতে পারছে না। অন্যদিকে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা বা আগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। বিট্রিজ বেনিতো মনে করেন, সাইবার বীমা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর দ্রুত অভিযোজন ক্ষমতা বা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুণটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বড় মাপের কোনো সাইবার বিপর্যয় ঘটলে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে। তাই এই খাতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে শুধুমাত্র পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের ডিজিটাল হুমকির প্রেক্ষাপটে নতুন এবং গতিশীল ঝুঁকি নিরূপণ মডেল তৈরি করা অপরিহার্য। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, বীমা খাতের ঝুঁকি নিরূপণের চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে; তাই উদ্ভাবন ও সতর্কতাই হবে এই খাতের ভবিষ্যৎ টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
মন্তব্য