খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ২:৩৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামুড়া এলাকায় দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি মাধবপুর এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিল। বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি সড়ক ছেড়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের মুন্সি আরশ আলী, শিশু আলিফ, সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার মৌসুমী দাস এবং নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের তনয় কুমার মজুমদার। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | বৈশামুড়া, শাহবাজপুর, সরাইল |
| সড়ক | ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক |
| সময় | সোমবার, দুপুর সাড়ে ১২টা |
| পরিবহন | দিগন্ত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস |
| নিহত | ৪ জন |
| আহত | অন্তত ৩০ জন |
| গুরুতর আহত | একাধিক যাত্রী |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | স্থানীয় জনতা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবাকর্মী |
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের দেওয়ান জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, ক্লান্তি, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সড়কের অবস্থা—বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সরাইলের এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং মহাসড়কে নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য