জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৮:৮ পিএম

নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে চার বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে আর্সেনালে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইস। সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চললেও শনিবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল।
২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দলে নেওয়ার কথা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। আর্সেনাল চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিমারাইসের জন্য প্রায় ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি হয়েছে এবং সেটি আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গিমারাইসকে বিক্রি করার ইচ্ছা নিউক্যাসলের ছিল না। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক রস উইলসন আগেই জানিয়েছিলেন, ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ধরে রাখাই তাদের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গিমারাইসের নিজের সিদ্ধান্তই দলবদলের পথ খুলে দেয়।
আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর নতুন ক্লাব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। কোচ মিকেল আর্তেতা ও ক্রীড়া পরিচালক আন্দ্রেয়া বের্তার সঙ্গে প্রথম আলোচনার পর থেকেই নতুন ক্লাবের পরিকল্পনা তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল বলে জানান গিমারাইস। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে তাঁর মনে হচ্ছিল, নতুন একটি চ্যালেঞ্জ প্রয়োজন। আর্সেনালের হয়ে খেলা সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
গিমারাইস ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ফরাসি ক্লাব লিওঁ থেকে নিউক্যাসলে যোগ দেন। সে সময় অবনমনের আশঙ্কায় থাকা নিউক্যাসলের জন্য তাঁর আগমন ছিল গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কোচ এডি হাওয়ের অধীনে দ্রুতই তিনি দলের মাঝমাঠের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। বল দখল, আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো এবং মাঝমাঠে ছন্দ নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
নিউক্যাসলে শুধু পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, নেতৃত্ব দিয়েও নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন গিমারাইস। গত দুই মৌসুমে তিনি দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের সময়েই নিউক্যাসল দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি বড় ট্রফি জেতে।
গত বছর লিগ কাপের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে নিউক্যাসল। ক্লাবটির ইতিহাসে সেটি ছিল ৫৬ বছরের মধ্যে প্রথম ট্রফি এবং ৭০ বছরের মধ্যে প্রথম ঘরোয়া শিরোপা। গিমারাইসের নিউক্যাসল অধ্যায়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল সাফল্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে সেই অর্জন।
ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯৫ ম্যাচ খেলেছেন গিমারাইস, যেখানে তাঁর গোলসংখ্যা ৩১। চার বছরে তিনি নিউক্যাসলের সমর্থকদের কাছে শুধু একজন গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার নন, দলের সাফল্য ও পুনরুত্থানের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
এবার তাঁর সামনে নতুন পরীক্ষা। আর্সেনালের হয়ে তাঁকে মিকেল আর্তেতার কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করার দায়িত্ব নিতে হবে। নিউক্যাসলে যে ধারাবাহিকতা, লড়াকু মানসিকতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, লন্ডনের ক্লাবেও সেটি ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়েই এখন আগ্রহ।
গিমারাইসের বিদায়ে নিউক্যাসলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। আর আর্সেনালের জন্য শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়—যেখানে ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলটির বড় সাফল্যের লক্ষ্যে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য