জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের যুদ্ধের মেঘ সাময়িকভাবে কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির পটপরিবর্তনে ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত সর্বাত্মক সামরিক হামলা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি স্থায়ী ও সমঝোতামূলক কূটনৈতিক কাঠামোর ওপর প্রাথমিক সম্মতি আসার পর ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সরাসরি অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ট্রুথ সোশ্যালের বার্তায় ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বা “লকড অ্যান্ড লোডেড” অবস্থায় ছিল। এই সামরিক অভিযানের মাত্রা ও শক্তিপ্রদর্শনের ধরন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কখনো দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সামরিক পদক্ষেপ চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেই কূটনৈতিক টেবিলে পরিবর্তন আসে। ট্রাম্প জানান, ইরান নিজে এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিত্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওয়াশিংটনকে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য যৌথ অনুরোধ জানায়। মূল কারণ হিসেবে বলা হয়, উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য স্থায়ী চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা বা পরিধি (Perimeters) নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ভূত এই রূপরেখা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা শর্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:
হরমুজ প্রণালির নিরাপদ যাত্রা: বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অভিলম্বে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য নিরাপদ করতে হবে।
পারমাণবিক ঝুঁকির স্থায়ী অবসান: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাসংক্রান্ত হুমকির চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “পৃথিবীর সার্বিক নিরাপত্তা ও একটি সফল এবং সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থেই আমি এ হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে কত দ্রুত আমরা চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি তার ওপর।”
প্রকাশিত সামাজিক বার্তায় দাবি করা হয়, সামরিক অভিযান স্থগিত ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার এই পদে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও সম্পূর্ণ সহমত প্রকাশ করেছে। পোস্টের ইতি টেনে ট্রাম্প সংক্ষেপে আহ্বান জানান, “সবাই যার যার কাজে লেগে পড়ুন এবং দ্রুত চুক্তিটি সম্পন্ন করুন। ধন্যবাদ।”
আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও, তেহরান কিংবা তেল আবিবের দায়িত্বশীল কোনো কূটনৈতিক বা সরকারি সূত্রের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই রূপরেখা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবুও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখার প্রতিশ্রুতি এবং পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়াকে বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য