জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ২:১৫ পিএম

বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নাটোর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের সমন জারি শেষে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. মাসুম বিল্লাহ বাবুগঞ্জ উপজেলার ‘আল ইকরা দারুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা’র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি মাদরাসার হিফজ বিভাগের এক ১২ বছর বয়সী আবাসিক শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে তুলে পর্দার আড়ালে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত জানায়। সন্তানের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ১১ এপ্রিল বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পরপরই পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুকে শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার)-এ পাঠায়।
অভিযান ও গ্রেফতার
মামলা দায়েরের খবর পেয়েই অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেন। তবে পুলিশ তার অবস্থান সনাক্ত করতে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন নজরদারি জোরদার করে। গত ৩১ জুলাই রাতে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার চক হিয়াতপুর এলাকায়। সেখান থেকে আসামি মাসুম বিল্লাহকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসামি মাসুম বিল্লাহ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চক হিয়াতপুর গ্রামের অধিবাসী শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার (১ আগস্ট) তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য