সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির আবেদন মহারণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মধ্যে প্রতিযোগিতা এবারের নির্বাচনে নজরকাড়া রেকর্ড গড়েছে। ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৩৫টি আসনের জন্য ৫০০-এর বেশি নারী প্রার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে এসব আবেদন এসেছে, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক জীবন, দলীয় কর্মকাণ্ড এবং মিছিল-মিটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করেছেন।

বিএনপির পল্টন অফিস সূত্র জানায়, এই আবেদনগুলো সরাসরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এত সংখ্যক আবেদন জমা পড়া দলীয় ইতিহাসে বিরল। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।

খুলনা থেকে আবেদন করা এক নারী নেত্রী বলেন, “আমি বহু বছর ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের জন্য যে ত্যাগ করেছি, তার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি চেয়ারম্যান জীবনবৃত্তান্ত মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীরা তৎপরতা বাড়িয়ে তুলছেন। একাধিক পেইজ ও পেইড প্রচারের মাধ্যমে মিছিল, মিটিং ও দলীয় কর্মকাণ্ডের ছবি শেয়ার করে দলীয় হাইকমান্ডের নজর আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে। মহিলা দলের নেত্রী এবং ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেত্রীরা এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঈদের পর পর্যন্ত সম্পন্ন হতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী আসনের অনুপাতে এই আসনগুলো বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচন অনুযায়ী সম্ভাব্য বণ্টন নিচে দেওয়া হলো:

দলসাধারণ আসনে জয়সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপি২০৯৩৫
জামায়াতে ইসলামী১১১১
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
অন্যান্য স্বতন্ত্র/ছোট দল

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ৭ জন জয়ী হয়েছেন – ৬ জন বিএনপি এবং ১ জন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০ আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ

দলীয় সূত্র জানায়, প্রার্থীদের মনোনয়ন বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে সব প্রার্থী, কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের সমর্থকরা এখন চূড়ান্ত মনোনয়নের ঘোষণা এবং তারিখের দিকে নজর রাখছেন।

প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে দলীয় রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।