জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংক থেকে গীতা রানী (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ট্যাংকের ভেতরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে আটঘরিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত গীতা রানী একদন্ত ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর স্বামী ঢাকায় থাকেন। এ কারণে গীতা রানী বাড়িতে অনেকটা একাই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে গীতা রানীর বাড়িতে প্রবেশ করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় তিনি বিষয়টি টের পেয়ে গেলে ঘরের ভেতরে তাঁর সঙ্গে দুর্বৃত্তদের ধস্তাধস্তি হয় বলে ধারণা পুলিশের। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে হত্যাকারীরা মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখে যায় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বৃহস্পতিবার সকালে গীতা রানীকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে তাঁর মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। এরপর দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশের ঘটনা সত্যি কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গীতা রানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় বাড়িতে আসলে কী ঘটেছিল এবং গীতা রানীর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে চুরি, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনায় কতজন জড়িত ছিল, তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং হত্যার পর কীভাবে মরদেহটি টয়লেটের ট্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
একজন নারী স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ এভাবে উদ্ধারের ঘটনায় বারইপাড়া গ্রামে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়িতে একা বসবাসকারী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার কারণ বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, কারা, কী কারণে এবং কীভাবে গীতা রানীকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য