শিশু রামিসা হত্যা: ফরেনসিক প্রতিবেদনে ধর্ষণের প্রমাণ ও চার্জশিট

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শিশুটিকে হত্যার পূর্বে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাই রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ফরেনসিক প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি

গতকাল শনিবার সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। এই প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার আইনি ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আজ রোববার বিকেলের মধ্যে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করার কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

মামলার প্রধান তথ্যসমূহ:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
ভিকটিমরামিসা আক্তার (৭), ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপপুলার মডেল হাইস্কুল
প্রধান আসামিসোহেল রানা
সহযোগী আসামিস্বপ্না আক্তার (আসামির স্ত্রী)
ঘটনাস্থলপল্লবী, ঢাকা
ঘটনার তারিখ১৯ মে
মামলার বাদীআব্দুল হান্নান মোল্লা (নিহতের বাবা)
তদন্ত সংস্থাপুলিশ ও সিআইডি

আসামির স্বীকারোক্তি ও বিচার প্রক্রিয়া

গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন যে, অপরাধ সংগঠনের পূর্বে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে আইন মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদের ছুটির পরপরই এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রেক্ষাপট ও জনরোষ

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের ছাত্রী রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি জানাজানি হলে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুততম সময়ে প্রধান আসামি ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায় থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিহত রামিসার পরিবারের সাথে দেখা করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং বিশেষ পিপি নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ এই পৈশাচিক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।