খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

দেশব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধন ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটছে প্রশাসন। সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এবার আরেকটি কড়া সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে। যেসব প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যে সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কিনেছেন, তাঁদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স বাবদ দেওয়া মাসিক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনার পর প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়িটির জ্বালানি, ড্রাইভারের বেতন ও মেরামতসহ সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। নতুন এই উদ্যোগের ফলে এই ভাতার পরিমাণ এখন ২৫ হাজার টাকায় নেমে আসবে। জানা গেছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসার পরই অর্থ বিভাগ ব্যয় কমানোর এই প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন সচিবের কাছে পাঠায়।
মূলত সরকারের উপসচিব পদমর্যাদা থেকে শুরু করে তার ওপরের স্তরের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ পেয়ে থাকেন। তবে বর্তমান বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত ৯ জুলাই অর্থ বিভাগ এই ঋণ সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এর পরপরই সচল থাকা গাড়িগুলোর মাসিক পরিচালন ব্যয় কমানোর এই তোড়জোড় শুরু হলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অর্থ বিভাগের চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
সম্পদের যথাযথ ব্যবহার: দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ফীতিকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা করার বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তাই এই সুবিধা কিছুটা কমিয়ে এনে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাঁচানোর লক্ষ্যে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
গাড়ির খরচ কমানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেওয়া সুযোগ-সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অপর একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের যেসব কর্মকর্তা দেশ-বিদেশে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ পান, তাঁরা পড়াশোনা, আবাসন ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।
এর পাশাপাশি তাঁরা সরকারি নিয়মে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) থাকার কারণে পূর্ণ বেতন-ভাতার সুবিধাও পেয়ে আসছিলেন। তবে এখন থেকে এই দ্বৈত সুবিধা আর থাকছে না। চিঠিতে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রেষণ বা পূর্ণ বেতন-ভাতা চালু রাখার পরিবর্তে কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদে ‘শিক্ষা ছুটি’ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে অর্থ বিভাগের ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
মন্তব্য