খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরে মোটরসাইকেলটি পুনরুদ্ধার করা গেলেও পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরের দিকে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাসানপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান রুমি নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল নিজ বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। তিনি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। চুরির খবর পাওয়ার পর চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন তথ্য ও প্রাপ্ত সূত্র বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলটির অবস্থান শনাক্ত করেন।
এরপর অভিযান চালিয়ে চিংড়া গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে আশরাফুজ্জামান রুমি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই মোটরসাইকেলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন না করে হস্তান্তর সম্ভব নয় বলে স্পষ্টভাবে জানান।
এতেই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে পড়ে। সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলামকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনি আহত হন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ আবার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে মোটরসাইকেলটি পুনরায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার করা মোটরসাইকেল থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল লোক তার ওপর হামলা চালায় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | কেশবপুর উপজেলা, যশোর |
| ঘটনার ধরন | মোটরসাইকেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা |
| আহত ব্যক্তি | সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম |
| গ্রেপ্তার | আবদুর রশিদ |
| জড়িত জনতা | প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন |
| বর্তমান অবস্থা | মোটরসাইকেল পুনরুদ্ধার, তদন্ত চলমান |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত |
মন্তব্য