নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় অপহরণের দুই দিন পর তিন বছর বয়সী শিশু উম্মে হানিকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে মাত্র চার হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল।
রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার সাহেব বাজার গেট এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। যৌথ অভিযানে শিবপুর থানা পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশ নেন। পরে আটক করা হয় অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুইজনকে।
উদ্ধার হওয়া শিশু উম্মে হানি শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কামরাব নোয়ারা গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার কন্যা। পরিবারটি শিবপুর কলেজপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
শিশুটির মা জানান, একই ভবনে বসবাসের কারণে শরিফা খাতুনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়েই ঘটনার দিন শরিফা খাতুন শিশুটিকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে না পেয়ে ওই দিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন চুনারুঘাট উপজেলার নতুন বাজার বাগবাড়ী গ্রামের নিজাম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী শরিফা খাতুন। অভিযোগ রয়েছে, শরিফা খাতুন শিশুটিকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং স্বামী নিজাম উদ্দিন এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।
অভিযুক্ত ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিশুর নাম | উম্মে হানি (৩) |
| উদ্ধার স্থান | সাহেব বাজার গেট এলাকা, মাধবপুর, হবিগঞ্জ |
| অপহরণের সময় | শুক্রবার সকাল (প্রায় ১০টা) |
| উদ্ধার সময় | রোববার রাত সাড়ে ১১টা |
| জড়িত প্রধান অভিযুক্ত | শরিফা খাতুন |
| সহ-অভিযুক্ত | নিজাম উদ্দিন |
| বিক্রির অর্থ | ৪ হাজার টাকা |
| শিশুর পরিবার | শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন |
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কোহিনুর মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে র্যাবের সহযোগিতায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং দুইজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের অংশ হতে পারে। তদন্তে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং শিশুটিকে কোথায় ও কার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু নিরাপত্তা ও ভাড়া বাসার পরিবেশে অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
