খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিচার বিভাগে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এবার তিনি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাম বন্ডিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প লেখেন: “আমরা আর দেরি করতে পারি না। এটা আমাদের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুই হচ্ছে না। এরপর তিনি সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমি, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফের বিরুদ্ধে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, শিফ ছিলেন ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন বিচারের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক।
কিছুক্ষণ পর আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প আবারও বন্ডির প্রশংসা করে বলেন, তিনি “দারুণ কাজ করছেন।”
এর আগে শনিবার ট্রাম্প লিখেছিলেন, তিনি ৩০টিরও বেশি বিবৃতি ও পোস্ট পর্যালোচনা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— “একই পুরোনো গল্প, শুধু কথা, কোনো কাজ নয়। কোমি, শিফ, লেটিশিয়া— ওরা সবাই বড় অপরাধী, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।”
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “একনায়কতন্ত্রের পথে যাত্রা” বলে আখ্যা দিয়েছে। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সিএনএন-কে বলেন: “বিচার বিভাগ সব সময় নিরপেক্ষ ছিল। রিপাবলিকান হোক বা ডেমোক্র্যাট, তারা ভীতিহীনভাবে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট এটিকে তার রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্ত্রে পরিণত করছেন।”
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল প্রসিকিউটর এরিক সিবার্টের পদত্যাগের একদিন পর। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সিবার্টকে বরখাস্ত করেছেন কারণ তিনি লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে বন্ধক জালিয়াতির মামলা করেননি।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সিবার্ট বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেছেন, জেমসকে অভিযুক্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। অন্যদিকে জেমস অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন” ও “প্রতিশোধপ্রসূত” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলায় জয়ী হয়েছিলেন।
শনিবার ট্রাম্প বলেন: “আমি তাকে বরখাস্ত করেছি। এখানে দারুণ একটি মামলা আছে। বহু আইনজীবী ও বিশ্লেষকও তাই বলছেন।”
তিনি আরও জানান, বন্ডি অত্যন্ত সতর্ক, বুদ্ধিমতী এবং দেশপ্রেমী। তবে ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে তার প্রস্তাবিত কড়া প্রসিকিউটর লিন্ডসে হ্যালিগানকে নিয়োগ দিতে হবে, যাতে কাজ এগিয়ে যায়।
১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্টের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে ট্রাম্প বারবার সেই প্রথা ভেঙেছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বরখাস্ত করেন। আবার ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা দাবি মানতে অস্বীকার করায় অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এছাড়াও, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই তালিকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও অন্তর্ভুক্ত।
মন্তব্য