অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দলের প্রতিভাবান পেসার মেহেদী হাসান হৃদয় বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রক্তের ক্যান্সার শনাক্ত করেছেন, যা অস্থিমজ্জা ও রক্তের একটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে তিনি নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে আছেন এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি গ্রহণ করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও শুরুতে রোগটি নির্দিষ্টভাবে ধরা পড়েনি। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলেও সঠিক কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে উন্নত পরীক্ষার জন্য নমুনা বিদেশে পাঠানো হলে নিশ্চিত হয় যে তিনি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত।
ফেনীর এই তরুণ ক্রিকেটার দারিদ্র্য ও সীমিত সুযোগের মধ্যেও ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বয়সভিত্তিক ট্রায়ালে অংশ নিয়ে তিনি নিজের প্রতিভার জানান দেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পান। কোচ রানা হাবিবের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তাঁর খেলার মান উন্নত হয় এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন।
খুলনার বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাই পাঁচটি উইকেট নিয়ে তিনি নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে হৃদয় ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারতেন।
তবে এই সম্ভাবনাময় পথ হঠাৎ করেই থেমে যায় গুরুতর অসুস্থতার কারণে। পরিবার জানিয়েছে, হৃদয়ের বাবা আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত এবং বর্তমানে কর্মক্ষম নন। ফলে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে পরিবারের জমি বিক্রি করতে হয়েছে এবং সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে।
বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে চিকিৎসা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সহায়তাকামীদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
একজন উদীয়মান ক্রিকেটারের জীবন বাঁচাতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও মানবিক সহানুভূতি।
মন্তব্য