খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই নভেম্বর ২০২২, ৩:৫৪ পিএম
মোহাম্মদ আলিম উদ্দিন (জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০- মৃত্যু: ১৮ আগস্ট ২০১৫) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং রংপুর-৪ আসন (বর্তমান নীলফামারী-৪) থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
Table of Contents

মু. আলীম উদ্দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ ডাঃ বদিউজ্জামান ও মাতা আঞ্জেমা খাতুন।
মু. আলীম উদ্দিন ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সৈয়দপুর ছাত্রলীগেরও সভাপতি ছিলেন। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবের দেয়া ভাষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
আলিম উদ্দিন ছয় নম্বর সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ১২ এপ্রিল ১৯৭১ সালের পাকসেনাদের গুলিতে নিহত হন তার পিতা ডাঃ বদিউজ্জামান। ১৯৭৩ সালে তৎকালিন রংপুর-৪ আসন (বর্তমান নীলফামারী-৪) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সৈয়দপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
মু. আলীম উদ্দিন ১৮ আগস্ট ২০১৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহরের নতুন বাবুপাড়া মহল্লার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী রাবেয়া আলীম (একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য) ও একমাত্র ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাশিদুজ্জামান রাশেদ ও তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।
কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ
মন্তব্য