জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৮ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার পৌরসভা ও কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চলমান বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাথরঘাটা থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বরগুনা জেলা কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ (৪৫), কালমেঘা ইউনিয়ন তরুণ প্রজন্ম লীগের সাবেক সভাপতি এবং পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাসেল মিয়া (৩২), পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দার (৫০), পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন আকন (৩৩) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী সবুজ আকন (২০)।
পুলিশের ভাষ্য, পৃথক সময়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ সময় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
থানা সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাথরঘাটা ও বরগুনার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তাদের আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট আদালত।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলার পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রতিটি অভিযান আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা মানেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক আসামি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করা ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গ্রেপ্তারের পর তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণের অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার আইন দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধ দমন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তদন্তাধীন মামলাগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য