পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নে সংঘটিত পোশাক ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহতের মা মিনারা বেগমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২৪ মে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার মিনারা বেগম (৫৩) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আবদুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদক কেনার জন্য অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে মা ও ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং পরে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মিনারা বেগম ঘরে থাকা একটি কুড়াল দিয়ে ছেলেকে আঘাত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আঘাতেই আবদুল কাইয়ুম ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের ব্যবহৃত মানিব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ। সেখানে মাদক সেবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | আবদুল কাইয়ুম |
| পেশা | পোশাক ব্যবসায়ী |
| অভিযুক্ত | মিনারা বেগম |
| অভিযুক্তের বয়স | ৫৩ বছর |
| সম্পর্ক | নিহতের মা |
| ঘটনার তারিখ | ২৪ মে |
| স্থান | টিকিকাটা ইউনিয়ন, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | কুড়াল |
| আইনি অগ্রগতি | ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি |
| বর্তমান অবস্থা | কারাগারে প্রেরণ |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সংগৃহীত আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। তদন্তের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার পর মিনারা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে মাদকের জন্য অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধই মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম চলবে।
