ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত উত্তরা উত্তর ও উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ হকার, ভাসমান দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনার বিরুদ্ধে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে পুরো স্টেশন এলাকার নিচতলা ও সংলগ্ন ফুটপাত থেকে সব ধরনের অবৈধ দখল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ সমন্বিত ও কঠোর নজরদারিভিত্তিক। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিবের নির্দেশে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি নেতৃত্ব দেন। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মেট্রোরেল স্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, স্টেশন দুটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসা গড়ে উঠেছিল, যা যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। এসব স্থাপনা দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বসতিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট হকারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কোনো ধরনের অবৈধ দোকান না বসানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার লিখিত ও মৌখিক অঙ্গীকার নেওয়া হয়।
এছাড়া স্টেশন এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আশপাশের স্থায়ী দোকানদারদের নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে পুরো এলাকা পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল থাকে এবং যাত্রী চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবার মান এবং মেট্রোরেল ব্যবস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল পুনরায় গড়ে উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
অভিযানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা
| সংস্থা বা বাহিনী | দায়িত্ব ও ভূমিকা |
|---|---|
| মেট্রোরেল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ | সার্বিক সমন্বয় ও অভিযান পরিচালনা |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ | আইনগত নেতৃত্ব ও তদারকি |
| থানা পুলিশ | নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সহায়তা |
| মেট্রোরেল নিরাপত্তা বাহিনী | স্টেশন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ |
| আনসার সদস্যরা | শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহযোগিতা |
| নিরাপত্তা কর্মীরা | সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা |
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংস্থাটির নিরাপত্তা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পুরো অভিযান জুড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কর্তৃপক্ষের মতে, মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন একটি চলমান প্রক্রিয়া। শুধু উচ্ছেদ নয়, পরবর্তী সময়ে পুনরায় দখল রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হ
