খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১০ এএম

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নবগঠিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে নাগরিক অধিকার এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মব কালচার বা মব জাস্টিসের অধ্যায় শেষ। আমরা কোনোভাবেই এই প্রথাকে আর উৎসাহিত করব না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু তা আদায়ের প্রক্রিয়া হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক।
বিক্ষোভ ও সমাবেশের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর নির্দেশনাসমূহ:
নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ: দাবি আদায়ের জন্য মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।
জনভোগান্তি রোধ: দাবি আদায়ের অজুহাতে কোনোভাবেই মহাসড়ক অবরোধ বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।
আইন হাতে না নেওয়া: কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে; উত্তেজিত জনতা মিলে কাউকে তাৎক্ষণিক বিচার বা সাজা দিতে পারবে না।
পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন যে, অতীতে বিভিন্ন কারণে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে।
পুলিশ ও মন্ত্রণালয় সংস্কারের প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
| বিষয় | লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা |
| জনবান্ধব পুলিশ | পুলিশকে আক্ষরিক অর্থেই জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলা। |
| স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি | প্রতিটি স্তরে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং উর্ধ্বতনদের নিকট জবাবদিহি। |
| দুর্নীতি নির্মূল | মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সকল বাহিনীকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা। |
| অপরাধের বিচার | বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা। |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বাহিনীর মধ্যে কোনো সদস্য যদি পেশাদারিত্ব লঙ্ঘন করে বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও তদারকি জোরদার করার মাধ্যমে একটি দক্ষ ও সৎ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পরিশেষে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, নতুন সরকার একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মব জাস্টিসের মতো সামাজিক ব্যাধি রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন থেকে অনেক বেশি তৎপর থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
মন্তব্য