জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের। তবে দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সেই সফর এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে।
বিষয়টি নিয়ে বিসিবির কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন না। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হবে এবং ক্রিকেটীয় সম্পর্কও স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশাবাদকে ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ক্রিকবাজ-এর এক প্রতিবেদনে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলের কয়েকজন সদস্যকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।
৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিষয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
বিসিবির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের দাবি, দিল্লিতে ওই সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার ঘটনাটি ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে আগেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সেই প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিবেশকে ওই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটীয় যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
সেই সময় ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়ার বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হলে ক্রিকেটীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর পর সেই আশাবাদ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী বক্তব্য পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করেছে। ফলে সেপ্টেম্বরে ভারতকে বাংলাদেশে আতিথেয়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখন কঠিন বলেই মনে করছেন বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্রিকবাজ-কে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। তাঁর ভাষ্য, অন্য পক্ষ থেকে সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিজটি ২৮ আগস্টের মধ্যে আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও হাতে সময় খুব কম। ফলে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন না এলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
তাঁর মতে, ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ভারতীয় দলকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি এখন আর শুধু ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজনৈতিক বাস্তবতা দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এ অবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিলের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিসিবির হাতে কার্যত অপেক্ষা করা ছাড়া বড় কোনো বিকল্প নেই। ফলে সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।
মন্তব্য