মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইউনাইটেড হাসপাতালকে ঘিরে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং হাসপাতাল ঘেরাও করেন নিহতের স্বজনরা।
নিহত মনিকা আক্তার (৩৮) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগির কামারদিয়া এলাকার ফুলচান মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের পূর্ববর্তী শারীরিক মূল্যায়ন ছাড়া তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করা হয়, যার পর থেকেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতেই তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তার শরীরে জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। হাত-পায়ে রক্ত জমাট বাঁধা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং তীব্র দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ডেঙ্গু বা পানিশূন্যতার কথা বলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে প্রথমে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর চিকিৎসা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সেপসিসে রূপ নেয়। এর পাশাপাশি কিডনি বিকল, রক্তে অম্লীয়তার মাত্রা বৃদ্ধি, রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা এবং রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে তিনি শক অবস্থায় চলে যান।
স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং পূর্ব প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা যথাযথভাবে করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, এটি চিকিৎসাগত অবহেলার স্পষ্ট উদাহরণ।
ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতা
সময়/তারিখ
ঘটনা
১৩ মে (রাত)
মনিকার অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
১৪ মে সকাল
হাত-পায়ে রক্ত জমাট ও দুর্বলতা দেখা দেয়
১৪ মে দিন
অবস্থার অবনতি, ডেঙ্গু ও পানিশূন্যতার কথা বলা হয়
১৪ মে রাত
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর
১৫ মে দুপুর
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর
১৫ মে বিকেল
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মৃত্যু
নিহতের ভাতিজা নিহাদ হোসেন জানান, অপারেশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে, কিন্তু সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের আগে সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল এবং রোগীকে শারীরিকভাবে উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে অস্ত্রোপচারের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ শারীরিক মূল্যায়ন বা অ্যানেস্থেসিয়া সংক্রান্ত প্রস্তুতি যথাযথভাবে হয়নি—এমন অভিযোগও স্বজনরা উত্থাপন করেছেন।
উল্লেখ্য, একই হাসপাতালে আগেও অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল, যা এ ঘটনার পর আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মন্তব্য