ভিক্ষুক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও চেইন ছিনতাই ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ষাটোর্ধ্ব এক ভিক্ষুক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও তার কাছ থেকে রুপার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া রুপার চেইনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে দুপুরে ভুক্তভোগী নারী শিবালয় উপজেলার একটি স্থানীয় বাজারে ভিক্ষা করছিলেন। এ সময় দক্ষিণ তেওতা এলাকার আশরাফুল (২৬) এবং রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭) তার কাছে এসে জানায়, রবিনের মা তাকে কিছু দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডেকেছেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী একটি ইজিবাইকে করে তাদের সঙ্গে রওনা দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তারা তাকে দক্ষিণ তেওতা এলাকার তৈয়বের বাঁশঝাড়ের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুইজন মিলে তাকে জোরপূর্বক বাঁশবাগানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় আশরাফুল ভুক্তভোগীর গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ১৪ আনা ওজনের রুপার চেইন কৌশলে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীকে এ বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার স্বজনদের জানান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শুক্রবার বিকেলে ষাইটঘর বাজার এলাকা থেকে আশরাফুল ও রবিনকে আটক করা হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করে যে, চুরি করা রুপার চেইনটি তেওতা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পাল (৪৫)-এর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে চেইনটি উদ্ধার করে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনা ঘটার তারিখ৩০ মে
অভিযোগ দায়ের৫ জুন (শুক্রবার)
ঘটনার স্থানদক্ষিণ তেওতা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ
ভুক্তভোগীষাটোর্ধ্ব ভিক্ষুক নারী
অভিযুক্তআশরাফুল (২৬), রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭)
উদ্ধারকৃত মালামালপ্রায় ১ ভরি ১৪ আনা রুপার চেইন
আটক তৃতীয় ব্যক্তিনিতাই চন্দ্র পাল (৪৫), স্বর্ণ ব্যবসায়ী
পুলিশের বক্তব্যমামলা দায়ের, তিনজনকে কারাগারে প্রেরণ

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।