খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই মে ২০২৬, ৩:৩২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। বিভিন্ন খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় চাকরির ধরন ও চাহিদার দক্ষতায় পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান GoHumanize-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী দশ বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায় চলে যেতে পারে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি এবং প্রশাসনিক কাজের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে মানবিক উপলব্ধি, আবেগ বোঝার ক্ষমতা, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি, নেতৃত্ব এবং জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো দক্ষতাগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে যায়নি।
গবেষণাটি বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপন, নিয়োগদাতাদের দক্ষতার চাহিদা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন দক্ষতার মানবনির্ভরতা মূল্যায়ন করেছে।
গবেষণায় সবচেয়ে নিরাপদ দক্ষতা হিসেবে নেতৃত্বকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রায় ৩১ শতাংশ কাজ প্রযুক্তি দ্বারা সম্পাদনযোগ্য হলেও এর মূল মানবিক দিক—বিশ্বাস তৈরি, পরিস্থিতি অনুধাবন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এখনো যন্ত্রের বাইরে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে দলগত কাজ এবং আলোচনা দক্ষতা।
নিচে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| দক্ষতা | মানবনির্ভরতা স্কোর (১০০-এর মধ্যে) | প্রাসঙ্গিক তথ্য |
|---|---|---|
| নেতৃত্ব | 93 | সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিশ্বাস গঠন মানবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ |
| আলোচনা দক্ষতা | 89 | আবেগ, কণ্ঠস্বর ও ভাষা বোঝার প্রয়োজন |
| দলগত কাজ | 79 | সহকর্মীদের মানসিক ও সামাজিক সমন্বয় প্রয়োজন |
| কোচিং ও মেন্টরিং | উল্লেখ নেই | মানবিক বোঝাপড়া ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নির্ভর |
| জনসমক্ষে কথা বলা | উল্লেখ নেই | আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ |
| সাংগঠনিক নেতৃত্ব | উল্লেখ নেই | ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
| পিপল ম্যানেজমেন্ট | উল্লেখ নেই | কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় |
| আবেগগত বুদ্ধিমত্তা | উল্লেখ নেই | অনুভূতি ও সামাজিক আচরণ বোঝা |
| ইন্টারপারসোনাল দক্ষতা | উল্লেখ নেই | সম্পর্ক ও যোগাযোগ দক্ষতা |
| পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা | উল্লেখ নেই | প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তন পরিচালনা |
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কোচিং ও মেন্টরিং দক্ষতা শিক্ষা, খেলাধুলা এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইভাবে জনসমক্ষে কথা বলার দক্ষতা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, পিপল ম্যানেজমেন্ট, আবেগগত বুদ্ধিমত্তা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতাগুলোও ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে থাকবে।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এখনো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে মানবিক ও সামাজিক দক্ষতার গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য