খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই আগস্ট ২০২৫, ১:৪২ পিএম

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের জেরে লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর মধ্যেই আজ বুধবার মার্কিন দূত টম ব্যারাক দক্ষিণ লেবাননে তার নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
আল খিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বলেছে, বুধবার ব্যারাক হেলিকপ্টারে করে সীমান্তবর্তী মারজাইউন শহরের একটি সেনাঘাঁটিতে পৌঁছান, যেখানে সেনা মোতায়েন ছিল। তবে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে নির্ধারিত খিয়াম ও উপকূলীয় শহর টাইর-এ আর যাননি। সম্প্রতি হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে খিয়াম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে সফরসূচি নিয়ে তারা মন্তব্য করতে পারবেন না।
এএফপি’র এক প্রতিবেদক জানান, খিয়ামে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বিক্ষোভ করেন। সেখানে হিজবুল্লাহর পতাকা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন নীল রঙে আঁকা ‘স্টার অব ডেভিড’-এর ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন। এর পাশে আরবিতে লেখা ছিল “আমেরিকা বড় শয়তান” এবং ইংরেজিতে লেখা ছিল “Barrack is animal”।
মঙ্গলবার বৈরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারাক বলেন:“ভদ্রভাবে আচরণ করুন। এটি যদি বিশৃঙ্খল ও পশুর মতো আচরণ হয়, আমরা চলে যাব।”
তার এই মন্তব্যের জেরে বিক্ষোভকারীরা ‘Barrack is animal’ শ্লোগান তোলে।
দক্ষিণের পৌর ইউনিয়নের কর্মকর্তা বিলাল কাশমার জানিয়েছেন, টাইরেতে বুধবার ডজনখানেক মানুষ ব্যারাকের সম্ভাব্য সফর এবং ওয়াশিংটনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট নীতি’-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ এবং ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে লেবানন সরকার সেনাবাহিনীকে বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্য এক মার্কিন দূত মর্গান ওর্তাগাস মঙ্গলবার বৈরুতে বলেন: “লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ইসরাইলও একইভাবে সাড়া দেবে।”
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ইসরাইলকে পুরোপুরি লেবানন থেকে সরে যেতে হবে এবং চলমান হামলা বন্ধ করতে হবে।
মন্তব্য