দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্লাসের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

ইকুয়েডরের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসকে দুর্নীতির অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।

৫৫ বছর বয়সী গ্লাস ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ার আমলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উত্তরসূরি লেনিন মোরেনোর সময়ও কিছুদিন একই পদে ছিলেন।

এ নিয়ে গ্লাসের বিরুদ্ধে চতুর্থবারের মতো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলো। তিনি এর আগে ওডেব্রেখট ঘুষকাণ্ডসহ দুটি দুর্নীতির মামলায় আট বছরের সাজা পেয়েছিলেন।

সর্বশেষ মামলাটি ২০১৬ সালে ইকুয়েডরের উপকূলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে। সে ভূমিকম্পে প্রায় ৭০০ জন নিহত হয়েছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পুনর্গঠন তহবিলের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে তা সেতু নির্মাণসহ অন্যত্র ব্যয় করা হয়।

গ্লাস বিচারের সময় নিজেকে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার দাবি করেন। তার সহ-অভিযুক্ত কার্লোস বার্নালকেও একই মেয়াদে কারাদণ্ড এবং দু’জনকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্লাস কুইটোতে মেক্সিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইকুয়েডরের পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ইকুয়েডর-মেক্সিকো কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, আমেরিকাবিরোধী রাফায়েল কোরিয়ার শাসনকালে সমাজকল্যাণ ও অবকাঠামো খাতে বড় অগ্রগতি হলেও পরে দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত হয়। বর্তমানে কোরিয়া বেলজিয়ামে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন এবং তাকেও ঘুষ মামলায় আট বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতির দায়ে গ্লাস ও কোরিয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।