বালু গর্তে প্রাণ গেল ছাত্রের

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বালু উত্তোলনের কারণে তৈরি হওয়া গভীর গর্তে পড়ে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে।

নিহত কিশোর আদর দাশ (১৩) চকরিয়া পৌরসভার খোদারকুম হিন্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পিতার নাম প্রদীপ দাশ। পরিবারের সদস্যদের মতে, কয়েকজন আত্মীয় ও সমবয়সী বন্ধুর সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আদরসহ কয়েকজন শিশু ও কিশোর মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নামে। নদীর ওপরিভাগে পানি অগভীর মনে হলেও ভেতরে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্ত ছিল। খেলতে খেলতে আদর সেই গর্তের ওপর দাঁড়ালে হঠাৎ করে সে নিচে তলিয়ে যায়। শুরুতে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর তাকে পানির নিচে ডুবে যেতে দেখে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন জানান, আদর প্রথমে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে গোসল করছিল। হঠাৎ করেই সে অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রথমে সবাই ভেবেছিল সে পানিতে ডুব দিচ্ছে বা খেলছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আর তাকে দেখা না গেলে চিৎকার শুরু হয় এবং কয়েকজন নদীতে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আদরের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আদরের বাবা কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে আসেন এবং আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, মাতামুহুরী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে অসংখ্য গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত উপর থেকে বোঝা যায় না। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোররা সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানমাতামুহুরী নদী, চকরিয়া, কক্সবাজার
ঘটনার সময়সোমবার, দুপুর সাড়ে বারোটা
নিহতআদর দাশ (১৩)
শ্রেণিসপ্তম শ্রেণি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকোরক বিদ্যাপীঠ
প্রত্যক্ষ কারণবালু উত্তোলনের গর্তে পড়ে পানিতে ডুবে যাওয়া

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে নদীভিত্তিক এলাকায় বালু উত্তোলনের অনিয়ম নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, তীরভাঙন বাড়ে এবং নদীর তলদেশে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়। এসব গর্তে পানি থাকলেও ভেতরে কাদামাটি নরম থাকায় মানুষ সহজেই আটকে পড়ে ডুবে যেতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটার আগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।