খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম

অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক,-এর বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নতুন গভর্নরের নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুমোদন মিললে আজই নতুন গভর্নরের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. আহসান মনসুর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সময়কালে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অবদান রেখেছেন। তিনি পিপিপি প্রকল্প নীতিমালা তৈরিতে সরকারের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিচের টেবিলটি ড. মনসুরের শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছে:
| শাখা | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু |
| উচ্চ শিক্ষা | কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর; ওয়েস্টার্ন অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি |
| আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল | ১৯৮১ সালে পিএইচডি চলাকালীন যোগদান; ফিসকাল অ্যাফেয়ার্স ও পলিসি রিভিউ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কাজ |
| মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া | ১৯৯৬–২০০৭ পর্যন্ত আইএমএফের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া বিভাগের দায়িত্ব পালন |
| সরকারি পরামর্শক | ১৯৮৯ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী ওয়াহিদুল হকের অর্থ উপদেষ্টা; ১৯৯১ সালে ভ্যাট প্রবর্তনে অবদান |
ড. মনসুর আইএমএফে দীর্ঘ সময় কর্মরত থেকে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক নীতি ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। তার বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও মুদ্রানীতি প্রণয়নে এটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুতগতিতে নতুন গভর্নরের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এই পরিবর্তনকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক নীতির জন্য নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য