জুস কেনাকে কেন্দ্র করে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে একটি দোকানে জুস কেনাকে কেন্দ্র করে এক মুদি দোকানদারকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক, উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মোজাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতোই সকালে দোকান খুলে তিনি স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে দোকানে জুস কেনাকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালে দোকানে আসা প্রতিবেশী বাদশা শেখের ছেলে বায়োজিদ শেখের সঙ্গে মোজাহিদুল ইসলাম মোল্লার জুস কেনা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ তর্কের মতো শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে বায়োজিদ শেখ ধারালো কাস্তে দিয়ে মোজাহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত বায়োজিদ শেখের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। পরে তাকে মারধর করা হয় বলে জানা যায়। পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় বায়োজিদ শেখকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পূর্ববর্তী কোনো বিরোধ ছিল কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামান্য একটি দোকানসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় এলাকাবাসী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
ঘটনার ধরনজুস কেনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড
সময়বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টা
স্থানহিজলা পশ্চিমপাড়া, চিতলমারী, বাগেরহাট
নিহতমোজাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৫)
অভিযুক্তবায়োজিদ শেখ
ব্যবহৃত অস্ত্রধারালো কাস্তে
আইনগত ব্যবস্থাঅভিযুক্ত আটক, মামলা প্রক্রিয়াধীন

চিতলমারী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।

নিহত মোজাহিদুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এলাকায় আগে ছোটখাটো বিরোধ দেখা গেলেও প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এই প্রথম। ফলে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।