বাংলাদেশি দর্শকদের বিশ্বকাপ দেখা অনিশ্চয়তায়, বাড়ছে উদ্বেগ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে সম্প্রচার-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক আগ্রহের এই বৈশ্বিক আসরটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এটি হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপ—FIFA World Cup 2026

বাংলাদেশে প্রতি বিশ্বকাপেই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ম্যাচগুলো সম্প্রচার করে থাকে। তবে এবার এখনো পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব তারা অর্জন করতে পারেনি। একইভাবে কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মও এই স্বত্ব কেনেনি বলে জানা গেছে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার অন্য দেশে সরাসরি দেখানো যায় না। ফলে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কোম্পানির কাছ থেকেই স্বত্ব কিনতে হবে।

বিটিভির সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মূল্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। কর ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, মোট অর্থের অর্ধেক ১০ মে’র মধ্যে এবং বাকি অর্ধেক ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই স্বত্বের আওতায় মোট ১০৪টি ম্যাচ—উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ—সরাসরি সম্প্রচার এবং হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ থাকবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে বিনামূল্যে সম্প্রচারের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না তা যাচাই করা যায়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিটিভি ফিফাকে দুটি ই-মেইল পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

নিচের টেবিলে প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
টুর্নামেন্টFIFA World Cup 2026
আয়োজক দেশযুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো
সম্প্রচার স্বত্বধারী (বাংলাদেশ)স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড
স্থানীয় সম্ভাব্য সম্প্রচারকবাংলাদেশ টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
প্রস্তাবিত স্বত্বমূল্যপ্রায় ১৫১ কোটি টাকা
মোট সম্ভাব্য ব্যয়প্রায় ২০০ কোটি টাকা (করসহ)
ম্যাচ সংখ্যা১০৪টি (উদ্বোধনী ও সমাপনীসহ)
অর্থ পরিশোধের সময়সীমা১০ মে ও ১০ জুন (দুই ধাপে)

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না পেলে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চিত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।