শেরপুরে টাকা ধার চাওয়া ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অপমানের জেরে আলামিন নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারই বন্ধু শুভ এবং সহযোগী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, যা পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে শেরপুরের চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি নেপিয়ার ঘাসখেত থেকে অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরনের ট্রাউজার ও জুতার সূত্র ধরে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন তার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তি তার ছেলে আলামিন।
ঘটনার পর শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের জামালপুর জেলা ইউনিট। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারে, নিহত আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে অভিযুক্ত শুভর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, একপর্যায়ে আলামিন তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে শুভকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। এরপর শুভ আলামিনের কাছে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য এক লাখ টাকা ধার চান। কিন্তু আলামিন পাল্টা শর্ত হিসেবে শুভর বোনকে নিয়ে অশালীন ইঙ্গিত করেন। এ ঘটনায় শুভ গভীরভাবে অপমানিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত করেন। গত ১৩ মে দুপুরে তারা আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে আলামিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় শুভ পেছন থেকে নাইলনের দড়ি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। একই সময় সম্রাট তাকে শক্তভাবে চেপে ধরে রাখেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলামিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘাসখেতে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দড়ি এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী সম্রাটকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শুভ পুরো হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কথা স্বীকার করেন।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | আলামিন |
| হত্যার স্থান | শেরপুর, চরপক্ষীমারী ইউনিয়ন |
| মূল অভিযুক্ত | শুভ |
| সহযোগী | সম্রাট |
| ঘটনার তারিখ | ১৩ মে |
| মরদেহ উদ্ধার | ১৮ মে |
| গ্রেপ্তার | ১৯ মে |
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পেছনের সব দিক যাচাই করে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষোভ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাদের হতবাক করেছে।
