বন্দরের আমিরাবাদে যুবককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৌহিদ (২২) নামের এক যুবককে অত্যন্ত জঘন্যভাবে গলা কেটে হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত স্থানে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। জনবহুল বাসস্ট্যান্ডের অদূরে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও নিহতের পরিচয়

নিহত তৌহিদ বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ বক্তারকান্দি এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়ার সন্তান। তাঁর বাবা পেশায় একজন মিশুকচালক। অভাবের সংসারে তৌহিদ কেবল একজন সন্তানই ছিলেন না, বরং বাবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঝেমধ্যে মিশুক চালিয়ে পরিবারের আর্থিক যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল এই যুবকের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি নির্জন পতিত জমিতে তৌহিদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। ঘাতকরা অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শ্বাসনালী কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

নিচে এই দুঃখজনক ঘটনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদান করা হলো:

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তথ্যাবলি

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত তথ্য
নিহতের নাম ও বয়সতৌহিদ (২২)।
পিতার নাম ও পেশামামুন মিয়া (মিশুকচালক)।
ঘটনার স্থানআমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পতিত জমি, ২৪নং ওয়ার্ড।
ঘটনার সময়শুক্রবার সন্ধ্যা।
আঘাতের প্রকৃতিধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা।
বর্তমান অবস্থামরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে।
আইনি পদক্ষেপঘাতকদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলমান।

পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি

খবর পেয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠায়। ওসি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি। তবে লাশের ধরন দেখে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা বা মাদক সংক্রান্ত বিরোধ আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবারের আহাজারি ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে তৌহিদের বাবা মামুন মিয়া ও মা এখন প্রায় বাকরুদ্ধ। তাঁদের আর্তনাদে আমিরাবাদ বক্তারকান্দি এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্জন এলাকাগুলোতে বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্তদের আড্ডা জমার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে তৌহিদের খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।