খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৭ এএম

ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের কঠোর নজরদারি আবারও ফলপ্রসূ হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার মান্নান বাজার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় গৃহীত এই অভিযানে জাটকা পরিবহনের দায়ে ছয়জন অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Table of Contents
জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দীন জানান, তারা গোপন সূত্রে খবর পান যে একটি বড় চালান সুবর্ণচর থেকে সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়ক হয়ে পাচার হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মান্নান বাজার পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণ করে। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানকে থামিয়ে তল্লাশি চালালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই মাছগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা সকলেই সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিষিদ্ধ জাটকা ব্যবসার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আটককৃতদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | বসতি (উপজেলা) |
| ০১ | মো. আরিফ | ২৫ | সুবর্ণচর |
| ০২ | মো. মাসউদ | ২৯ | সুবর্ণচর |
| ০৩ | মো. আকবর হোসেন সবুজ | ৩৪ | সুবর্ণচর |
| ০৪ | মো. সালাউদ্দিন | ৩৫ | সুবর্ণচর |
| ০৫ | মো. নুরুল হুদা | ৩৫ | সুবর্ণচর |
| ০৬ | মো. জাবেদ হোসেন | ৩০ | সুবর্ণচর |
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আটককৃত ছয়জন ব্যক্তি তাদের অপরাধ স্বীকার করায় ১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৪/৫ ধারায় তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় জেল হাজতে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পান।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত আড়াই হাজার কেজি জাটকা স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সুশীল সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে। এতে যেমন একদিকে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে অসহায় মানুষের আমিষের চাহিদাও পূরণ হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা রক্ষায় জেলাজুড়ে এ ধরণের অভিযান আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে চলবে। বিশেষ করে গভীর রাতে যাতায়াতকারী পিকআপ ও ট্রাকগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে।
মন্তব্য