খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৮ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একটি আবাসিক হলের কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে এক ঝটিকা অভিযান চালায় হল প্রশাসন ও হল সংসদ। অভিযানের সময় হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষ থেকে ২১ বোতল দামী বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় এবং এই মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম ফজলে আজওয়াদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজওয়াদের বাবা স্থানীয় পারারামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, আজওয়াদ ওই হলের কোনো বৈধ আবাসিক ছাত্র নন; বরং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ৭২৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মদের এই চালানটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে আনা হয়েছিল। জামালপুরের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে ‘সালমান’ নামক একজন মাদক ডিলারের মাধ্যমে এই অবৈধ পণ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শীতকালীন কোনো উৎসব বা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই বিপুল পরিমাণ মদ মজুদ করা হয়েছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মাদক বিরোধী অভিযানের মূল তথ্যাদি নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ | ২১ বোতল বিদেশি মদ |
| অভিযান পরিচালনাকারী | জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রশাসন ও হল সংসদ |
| অভিযুক্তের পরিচয় | ফজলে আজওয়াদ, ৩য় বর্ষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ |
| অবৈধ কক্ষ নম্বর | ৭২৩, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল |
| মাদকের প্রাপ্তিস্থান | বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত (জামালপুর অংশ) |
| প্রাথমিক আইনি পদক্ষেপ | অভিযুক্তকে আটক ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ |
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হলের ভেতরে মাদকের উপস্থিতির খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি। উদ্ধারকৃত ২১ বোতল মদ বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আটককৃত শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তিনি আরও জানান যে, এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হলের নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এ ধরনের মাদক কারবারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সীমান্ত থেকে মাদক আসার বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় প্রশাসন স্থানীয় পুলিশকেও এই বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্তব্য