খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম

স্বামীকে থানা লকআপ থেকে জোরপূর্বক মুক্ত করার চেষ্টা এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম সারিনা বিবি (৩৭)। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে তাকে তার বাসস্থান থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর খানকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানার হেফাজতে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ওই থানাতেই আটক অবস্থায় রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী সারিনা বিবির নেতৃত্বে একদল সমর্থক ফলতা থানায় হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল লকআপে থাকা জাহাঙ্গীর খানকে জোরপূর্বক মুক্ত করা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ফলতা থানায় এই হামলার পরিকল্পনা সারিনা বিবিই করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর খানকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো এবং প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন, যার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তার ব্যক্তি | সারিনা বিবি (৩৭) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | নিজ বাসস্থান |
| ঘটনার স্থান | ফলতা থানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা |
| মূল অভিযুক্ত | জাহাঙ্গীর খান |
| প্রথম আটক | ৮ জুন, নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশকালে |
| অভিযোগ | পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা এবং লকআপ ভাঙার চেষ্টা |
রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর খান তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ফলতা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনী ঘটনাপ্রবাহে তার নাম একাধিক বিতর্কে উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি এক আইপিএস কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশন ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে পুনঃনির্বাচনের আগে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বলে জানা যায়।
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য