রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় দণ্ডিত আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতের কার্যতালিকায় মামলাটির ডেথ রেফারেন্স আদেশের বিষয়টি প্রথম ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত এ রায় দেন।
বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে রায়সহ মামলার যাবতীয় নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয় এবং তা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল করেন দুই আসামি। ১৪ জুন বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আপিল দুটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আপিল দুটি গ্রহণ করেন।
অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট বিবিধ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১০ জুন প্রধান বিচারপতি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত ওই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
পল্লবীর আলোচিত মামলাটিও এই বেঞ্চে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হয়েছে।
মামলার বিচারিক ও আপিল প্রক্রিয়ার অগ্রগতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ১৯ মে |
| বিচারিক আদালতের রায় | ৭ জুন |
| ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছে | ৯ জুন |
| জেল আপিল দাখিল | ১১ জুন |
| আপিল গ্রহণ | ১৪ জুন |
| রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ | ১৬ জুন |
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক এবং সৈয়দ ইজাজ কবির উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক জানিয়েছেন, মামলার পেপারবুক বা মামলার বৃত্তান্ত প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, দণ্ডিতদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিতে আদালত সলিসিটর অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে।
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্টে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হয়, যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। একই সঙ্গে আসামিরা জেল আপিল, নিয়মিত আপিল বা অন্যান্য আবেদন করার সুযোগ পান। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স এবং সংশ্লিষ্ট আপিলসমূহ একত্রে শুনানি করা হয়ে থাকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলসংক্রান্ত কার্যক্রম হাইকোর্টে চলমান রয়েছে।
