গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় বিশ্রামরত সংস্কৃতিকর্মী সাইদ খান সাগর হঠাৎ নির্বাচনী প্রচারণার অতিবেগুনী মাইকের শব্দে কষ্টে আক্রান্ত হন। অসহ্য শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে মাইক বন্ধ করেন।
সাগর প্রথম আলোকে বলেন, “নির্বাচনী শব্দদূষণ আমাদের সাধারণ জীবনযাপনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। রাত ৮টার পর মাইকের ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ, কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। এভাবে আমাদের শান্তি ভেঙে যাচ্ছে।”
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে শব্দদূষণ দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার অংশ। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য অবিরাম মাইকিং, প্রচারগাড়ির উচ্চ শব্দের গান ও স্লোগান নাগরিক দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, বাজার, হাসপাতাল—কোথাও রেহাই পাচ্ছে না।
তবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৫ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে:
প্রচারণায় মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাউডস্পিকার ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না।
সরকারঘোষিত নীরব এলাকায় প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশকে তাদের এলাকায় নীরব এলাকা ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
নিচে প্রধান নীরব এলাকা ও প্রযোজ্য বিধির সংক্ষিপ্ত তালিকা দেখানো হলো:
| এলাকা/প্রতিষ্ঠান | নীরব এলাকা রেডিয়াস | প্রযোজ্য বিধি | ঘোষণা তারিখ |
|---|---|---|---|
| হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, অফিস | ১০০ মিটার | প্রচারণা নিষিদ্ধ | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন (ঢাকা উত্তর) | পুরো এলাকা | প্রচারণা নিষিদ্ধ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
গুলশান-১-এর বাসিন্দা শাহ রাফায়েত চৌধুরী বলেন, “আমাদের এলাকায় সরকারি নীরব এলাকা হলেও প্রতি পাঁচ মিনিটে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘নয় ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চলছে। কখনো অটোরিকশা, কখনো রিকশায় মাইক বেঁধে শব্দদূষণ তৈরি হচ্ছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করার একটি নেতিবাচক উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “এ সমস্যা শুধু গুলশান নয়, আমার অফিস নিকেতন আশেপাশেও একই পরিস্থিতি। নাগরিকরা বিশ্রাম, চিকিৎসা বা পড়াশোনায় বিঘ্নের মুখে পড়ছেন।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও জনগণকে সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে এই সময় বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে যাতে নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
