পটিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাস্তায় একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন ও হেনস্তা করার অভিযোগে শরিফুল ইসলাম প্রকাশ আইয়ুব (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৬ সালের ২৪ মে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বুধপুরা মাইজপাড়া এলাকা থেকে তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের ভূমিকা

স্থানীয় বাসিন্দা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি, যে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী, রাস্তা দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছিল। সে সময় বুধপুরা মাইজপাড়া এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শিশুটিকে একা পেয়ে তার ওপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন চালায়।

ঘটনাটি ঘটার সময় আশেপাশের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং আঞ্চলিক পুলিশ কমান্ডকে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ জানান। স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার আগেই পুলিশকে খবর দিয়ে তারা দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দেন।

পুলিশের দ্রুত অভিযান ও আসামিকে গ্রেপ্তার

জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য ও অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পটিয়া থানার একটি বিশেষ চটজলদি দল ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানের মূল সময়ক্রম ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো ছিল নিম্নরূপ:

  • সকাল ০৮:৩০ মিনিট: ভুক্তভোগী শিশুকে রাস্তায় একা পেয়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয়রা তা দেখতে পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

  • সকাল ০৯:০০ মিনিট: পুলিশ বুধপুরা বাজার এলাকায় একটি সফল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে।

  • সকাল ০৯:৩০ মিনিট: প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বুধপুরা মাইজপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • দুপুর ১২:০০ মিনিট: প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে আসামিকে পটিয়ার সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তথ্য পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে বুধপুরা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমাদের একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। শিশু নির্যাতনের মতো যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে। আমরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঘটনায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।’

আইনি প্রক্রিয়া ও রিমান্ডের আবেদন

থানায় নিয়ে আসার পর অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম প্রকাশ আইয়ুবের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র তৈরি শেষে রবিবার দুপুরের দিকে আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।

আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পটিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ, কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কিনা এবং আসামির পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কিনা, তা বিস্তারিতভাবে উদ্ঘাটনের জন্য আদালতে আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন দাখিল করা হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের গভীর উদ্বেগ

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকার অভিভাবক এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলের রাস্তাঘাটে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যেন স্কুল শুরু এবং ছুটির নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে পুলিশের বিশেষ টহল বা নজরদারি বাড়ানো হয়। এটি করা হলে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস পাবে না এবং শিশুরা একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ভয়হীন পরিবেশে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।