খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ ঘটনার পর সীমান্তঘেঁষা উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়াই ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সোমবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলার এবং তাতে থাকা পাঁচ মাঝিমাল্লাকে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অপহৃত পাঁচ জেলে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) এবং মো. আইয়ুব (২৪)।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে যায়। ট্রলারটি ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় পৌঁছানোর পর আরাকান আর্মির সদস্যরা সেটিকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। একই সময়ে আশপাশে মাছ ধরছিল এমন আরও কয়েকটি ট্রলার দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়।
বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় উপকূলের জেলেপল্লিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জেলে এখন গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত অপহৃত জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রশাসনের কাছে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
টেকনাফ উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাব প্রায়ই সীমান্তবর্তী জলসীমায় এসে পড়ে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জেলে অপহরণ, মাছ ধরার ট্রলার জব্দ এবং সীমান্তে উত্তেজনার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে উপকূলীয় জেলেদের জীবিকা যেমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে অপহৃত জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য