জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৬ পিএম

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাসের চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসে থাকা আরও অন্তত আট যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নলকা ওভারপাসের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত বাস থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রঞ্জন দেবনাথ জানান, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাস রাত দেড়টার দিকে নলকা ওভারপাসের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ শহরের দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক ওভারপাসে ওঠার সময় বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের চালকসহ দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাসের আরও অন্তত আট যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাতের ব্যস্ত মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটায় আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
উদ্ধারকাজের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাস থেকে আহতদের বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল বাসটি। অপরদিকে ট্রাকটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিক থেকে এসে নলকা ওভারপাসে ওঠার সময় বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে চলাচলরত দুই যানবাহনের এই সংঘর্ষেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে বাসটিকে ধাক্কা দিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের গতি কিংবা অন্য কোনো কারণে সংঘর্ষটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নলকা এলাকায় এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘপথের যাত্রীবাহী বাস ও ভারী পণ্যবাহী যান একই মহাসড়কে চলাচল করায় চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য